মেজর সিনহা হত্যা: খুনি ধরা পড়েছে, কিন্তু নির্দেশদাতার বিচার কোথায়?

মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে হত্যার পর শুরু হয় আলোড়ন। যিনি গুলি চালিয়েছিলেন, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গণমাধ্যমে। টিকটকে ভাইরাল হয় মেজর সিনহার বিভিন্ন ভিডিও, যেখানে তার ব্যক্তিত্ব, সাহসিকতা এবং দেশপ্রেম ফুটে ওঠে। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন এক ‘হিরো’। পরবর্তীতে তদন্তে উঠে আসে, সিনহার নির্মাণাধীন ডকুমেন্টারিতে ওসি প্রদীপ কুমার দাশের নাম বারবার উঠে আসছিল, যেখানে তার মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এই তথ্য প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, যাতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত আলী। উদ্দেশ্য ছিল ভয় দেখানো, কিন্তু ঘটনা গড়ায় মৃত্যুর দিকে। পরে প্রকাশ পায়, ওসি প্রদীপ ও এক

আইনজীবীর মধ্যে ফোনালাপ—যেখানে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কিছু আলোচনা উঠে আসে। তদন্তের ভিত্তিতে ওসি প্রদীপ, লিয়াকতসহ আরও কয়েকজনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত, এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে প্রশ্ন রয়ে যায়—যে খুন করল, তার বিচার হলো। কিন্তু যে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করল, তার নির্দেশ দিল—সে কি আদৌ বিচারের মুখোমুখি হবে? মাদক কারবারের আসল গডফাদাররা কোথায়? তারা কি আজও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে? নাকি এই বিচারের মধ্য দিয়ে শুধু কিছু মুখ্য চরিত্রদের সাজা দিয়ে, মূল অপারাধীরা থেকে যাবে নিরাপদে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা শুধু প্রয়োজন নয়, অপরিহার্য। কারণ বিচার তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন সব পক্ষ সমানভাবে কাঠগড়ায় দাঁড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *