সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি: ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা

মিরাজ শুভ- দেশের সাম্প্রতিক অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে সেনাবাহিনীর ভেতরে বিদ্রোহী মনোভাব দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জুনিয়র অফিসাররা (লেফটেন্যান্ট থেকে মেজর) নানা অসন্তোষের প্রকাশ ঘটাচ্ছেন। সূত্রমতে, বেশ কিছু সেনা ক্যাম্পে টহলের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট যোন কমান্ডারদের সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে।

সেনা সদস্যদের অভিযোগ, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন অনিয়ম সম্পর্কে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক “ডেভিল হান্ট” অপারেশন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুসারে, অভিযানে ৯ হাজারের বেশি লোক গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হলেও, বাস্তব সংখ্যা তার অর্ধেকও নয় বলে দাবি উঠেছে।

পুলিশের আইজিপি আজ ঘোষণা দিয়েছেন যে র‍্যাব, পুলিশ ও এন্টি টেররিজম ইউনিট যৌথ অভিযান পরিচালনা করবে। তবে, সেনাবাহিনী এই অভিযানে যুক্ত হচ্ছে না, যা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এর পাশাপাশি, সেনা হেল্প লাইন নম্বরগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা ৫ই আগস্টের পর চালু করা হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীর ভূমিকা কমিয়ে ফেলা হলে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কিছু সেনা কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন যে, সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার প্রত্যাহার করে তাদের কেবল ক্যান্টনমেন্টে সীমাবদ্ধ করে রাখা হতে পারে।

এ বিষয়ে এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ওয়াকার স্যার, সেনা সদস্যদের কঠোর অভিযানে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সেনাবাহিনীর কার্যক্রমকে আরও সীমাবদ্ধ করে দিতে পারে।

বিশ্বের ইতিহাসে দেখা গেছে, অনেক দেশে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ মারাত্মক পরিণতি বয়ে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় শীর্ষ কর্মকর্তাদের সতর্ক ও কৌশলী সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি, অন্যথায় সেনাবাহিনীর ভেতরে বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *