দক্ষিণ এশিয়ায় খ্রিস্টান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে ফের উত্তপ্ত আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার মার্কিন কংগ্রেসম্যান পল গোসান দাবি তুলেছেন যে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোকে নিয়ে একটি স্বাধীন খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠন করা উচিত।
ভারতের উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ভাঙার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মার্কিন সমর্থন নিয়ে দিল্লি উদ্বিগ্ন। ভারতের দাবি, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মেঘালয়, মনিপুর ও অরুণাচল প্রদেশে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র গোপনে সহায়তা দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ভারত তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
পেন্টাগনের গোপন নথি ফাঁস
সম্প্রতি পেন্টাগনের একটি গোপন নথি ফাঁস হয়েছে, যেখানে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে নিয়ে একটি স্বাধীন খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে। এতে ভারতজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। এই প্রস্তাবিত রাষ্ট্রের আয়তন হবে প্রায় ১,৩২,০০০ বর্গ কিলোমিটার, যা বাংলাদেশের আয়তনের কাছাকাছি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও চীনের মোকাবিলা
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব মোকাবিলা করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে নতুন কৌশল গ্রহণ করছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসন এই বিষয়ে আগ্রহী ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি নতুন রাষ্ট্র গঠিত হলে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে। কারণ এই নতুন রাষ্ট্রের জন্য বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করা অপরিহার্য হয়ে উঠবে। একইসঙ্গে, নতুন রাষ্ট্রের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত মিল থাকায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সহজতর হতে পারে।
নতুন রাষ্ট্র গঠনের সমর্থনে কুকি-চিন ঐক্যের ডাক
মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদহনা সম্প্রতি কুকি, চিন ও জো জাতিগোষ্ঠীর ঐক্যের ডাক দিয়েছেন, যা বৃহত্তর খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের দিকে ইঙ্গিত করছে।
বাংলাদেশের করণীয়?
বাংলাদেশ কি ভারতের সেভেন সিস্টার্সের স্বাধীনতাকামীদের সমর্থন দেবে? বিষয়টি এখনো বিতর্কের পর্যায়ে থাকলেও, এ নিয়ে কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।