বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা: ইসলামি বিপ্লবের প্রস্তুতি?

মিরাজ শুভ,ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: বাংলাদেশ বর্তমানে এক ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর জোট গঠনের মাধ্যমে সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যশোরে সর্বহারা পার্টি, হরকাতুল জিহাদ, সিরকিয়াল হিন্দ, জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং হিজবুত তাহরীর একত্রিত হয়ে শক্তিশালী জোট গঠন করেছে। একই ধরনের পরিস্থিতি দেশের বিভিন্ন জেলায়ও তৈরি হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত

বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক মেরুকরণের পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘটনাগুলোকে কেবল অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। প্রাপ্ত তথ্যমতে, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক মহল থেকে সহায়তা চেয়েছেন। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশী জঙ্গিদের সহায়তায় পাকিস্তান এবং আন্তর্জাতিক ধনকুবের জর্জ সোরোস, ক্লিনটন ও ওবামা প্রশাসনের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন।

জঙ্গি কার্যক্রমের বিস্তার

সরকারি গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারে, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং দেশটির উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

২০ জানুয়ারি: আইএসআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম মালিক ঢাকায় আসেন। সঙ্গে ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আলম আওয়ান ও যৌথ বাহিনীর চেয়ারম্যান জেনারেল উসমান।

২১ জানুয়ারি: সুইজারল্যান্ডে গোপন বৈঠকে ইউনূস জর্জ সোরোসের “ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন” এবং ক্লিনটন প্রশাসনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য আলোচনা করেন।

২৯ জানুয়ারি: আলেক্সা সোরোস ঢাকায় এসে অর্থায়নের বিষয়ে নিশ্চিত করেন।

৩১ জানুয়ারি: ইউনূসের উপদেষ্টা রেজওয়ানা হাসান ৭টি ইসলামী জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

৩ ফেব্রুয়ারি: আনুষ্ঠানিকভাবে “ইসলামী রেভলিউশন আর্মি” নামে একটি শক্তিশালী জঙ্গি বাহিনী গঠিত হয়।

সেনাবাহিনীতে অনুপ্রবেশ

সরকারের একাংশের দাবি, দেশের সেনাবাহিনীর ২৮টি ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে ২০টি এখন আইএসআই এবং জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল ফয়জুর ও ডিজিএফআই-এনএসআই-এর কিছু অংশ এখন আইএসআই-এর নির্দেশনায় চলছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা করা হচ্ছে।

অস্ত্র ও অর্থের যোগান

অস্ত্র: পাকিস্তান সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ করছে, এবং ভবিষ্যতেও করবে।

অর্থ: জর্জ সোরোসের “ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন” থেকে অর্থ খরচ করা হচ্ছে।

নতুন জোট: রোহিঙ্গা ৪টি জঙ্গি সংগঠনকে একত্রিত করে “ফোর ব্রাদার্স অ্যালায়েন্স” গঠিত হয়েছে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশের বর্তমান সংকট আন্তর্জাতিক মহলেও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

ভারত: গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় সরকার সার্জিকাল স্ট্রাইকের পরিকল্পনা করছে।

যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া: এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।

আরাকান আর্মি: ইতিমধ্যে প্রস্তুত, শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

দেশের বর্তমান অবস্থা দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি হয়তো বাংলাদেশে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হতে পারে। যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে দেশ ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *